নভেম্বরে ঢাকায় প্রোগ্রামিং বিশ্বকাপ আইসিপিসি

৮ মার্চ, ২০২২ ১১:৪৯  
আগামী ৬ থেকে ১১ নভেম্বর বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হবে প্রোগ্রামিংয়ের অলিম্পিয়াড খ্যাত ইন্টারন্যাশনাল কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং কনটেস্ট আইসিপিসি’র ওয়ার্ল্ড ফাইনাল। আইসিপিসি'র ৪৫তম এই আসর বাস্তাবয়নে নেতৃত্বে থাকছে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ। একাডেমিক হোস্ট ‘ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিক’, বাংলাদেশ এবং সহ-আয়োজক হিসেবে রয়েছে ‘বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল’। অবশ্য মূল আয়োজক প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের বেলর বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষে যথারীতি এ প্রোগ্রাম আয়োজনের গ্লোবাল হোস্ট ‘আইসিপিসি ফাউন্ডেশন’। মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ের আইসিটি টাওয়ারের বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল (বিসিসি) অডিটরিয়াম হলে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক। জাপান, ইউরোপিয় ইউনিয়ন এবং আমেরিকায় আগামী ৫ বছরে ২০ লাখ প্রোগ্রামারের প্রয়োজন হলেও সেখানে তারা মানুষের গড় বয়স নিয়ে সুবিধাজনক অবস্থানে না থাকায় বাংলাদেশ সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সরকার এরইমধ্যে নানা উদ্যোগ নিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, আপনারা জেনে আনন্দিত হবেন যে,  এ বছর থেকেই সরকার প্রাথমিকেও কোডিং বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এর মাধ্যমে আজকের ২ কোটি প্রাথমিক শিক্ষার্থী যখন কোডিং শিখে যাবে, প্রোগ্রামিংয়ের মাধ্যমে প্রবলেম সলভার হবে তখন ২০৪১ সালের জ্ঞানভিত্তিক উদ্ভাবনী বাংলাদেশ বাস্তবায়ন আর স্বপ্ন থাকবে না। সংবাদ সম্মেলনে দেয়া বক্তব্যে পলক বলেন, আমরা এখন পপুলেশন ডেভিডেন্ডে সুবিধা জনক অবস্থায় আছি। অনুষ্ঠানের আগে আমি বাউচাররের সঙ্গে কথা বলছিলাম, এখন সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হচ্ছে ব্রেইন। কারণ,৫০ বছর আগে যেসব দেশ খনিজ সম্পদের অধিকারি ছিলো তারা নিজেদেরকে ধনী দেশ হিসেবে মনে করতো। কিন্তু আজ ইলন মাস্ক, জেফ বেজস, মার্ক জুকারবার্গ কিংবা বিল গেটসের মতো বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তিরা কোনো স্থায়ী সম্পত্তির অধিকারী কোম্পানির মালিক নয়। তাদের সবারই মেধাসম্পদের মতো অস্পর্শনীয় অস্থাবর সম্পদ দিয়েই ট্রিলিয়নিয়ার হয়েছেন। দ্রুত উন্নয়নের মাইলফলক ছুঁতে প্রধানমন্ত্রীর ‘সম্মিলিত উদ্ভাবন’ নীতির কথা তুলে ধরে তিনি আরো বলেন, আমি মনে করি এই ধরনের আন্তর্জাতিক কলেজিয়েট প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে আমরা প্রয়োজনীয় উদ্ভাবনী সল্যুশন খুঁজে পাবো। এই প্লাটফর্মে অংশগ্রহণকারি লক্ষাধিক অংশগ্রহণকারীর মাধ্য থেকেই ভবিষ্যতের ইলন মাস্ক, জেফ বেজোস বেরিয়ে আসবেন। আর করোনার সময়ে উবার মডেলের পরবর্তি ধাপ ‘ডক্টর পুল’ এর মতো উদ্ভাবনী সল্যুশন দিয়ে বাংলাদেশ থেকেও তেমন শত কোটিপতি বেরিয়ে আসবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন আইসিটি প্রতিমন্ত্রী। এই কোডিং যাত্রায় সাংবাদিক, আইনজীবী এবং রাজনীতিকদেরও অংশগ্রহণের আহ্বান জানান পলক। আইসিটিবিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব এন এম জিয়াউল আলম, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের নির্বাহী পরিচালক ড. আবদুল মান্নান, এশিয়া প্যাসিফিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপচার্য ড. কামরুল আহসান, আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড.উইলিয়াম বিল পাউচার, আইসিপিসি যুগ্ম নির্বাহী পরিচালক ড. জেফ জোনাহ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে আইসিপিসি ঢাকা আয়োজন বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিলের পরিচালক এনামুল কবির। অনুষ্ঠানে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সিনিয়র সচিব এন এম জিয়াউল আলম পিএএ বলেন, ডিজিটাল বাংলাদেশ মানে দেশের অগ্রগতি। এই অগ্রগতির মাধ্যমে আমরা যেন একটি ন্যায়সঙ্গত সমাজ গড়ে তুলতে পারি এবং সম্পদ ও সেবার সুষম বণ্টন করতে পারি এটাই আমাদের লক্ষ্য। তিনি বলেন যে, আমরা যে জ্ঞান অর্জন করেছি তা অতিক্রম করতে পারলে এবং ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য আরও সুযোগ তৈরি করতে পারলেই আমাদের দেশ আরও বড় হতে পারে। তিনি বলেন যে, আমরা দেশের যুবক-যুবতীদের, ছাত্র-ছাত্রীদের এবং শিশুদের জন্য উপযুক্ত প্রশিক্ষণ প্রদান ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার লক্ষ্যে দেশব্যাপী উদ্যোগ নিয়েছি। আইসিপিসি ফাউন্ডেশনের সভাপতি ড. বিল পাউচার প্রাত্যহিক জীবনে প্রযুক্তির গুরুত্ব নিয়ে বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, আইসিপিসি হল আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে সজ্জিত করার জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বিশ্ববিদ্যালয়গুলোরই একটি প্রযুক্তি বিষয়ক প্রতিযোগিতা। বাংলাদেশে আইসিপিসি ওয়ার্ল্ড ফাইনাল খুব সফলভাবে আয়োজন করা হবে বলে তিনি আশাবাদী। ৪৫ তম আইসিপিসি আসরের একাডেমিক হোস্ট ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল আহসান বলেন যে আইসিপিসি হল এমন একটি প্রিমিয়ার গ্লোবাল প্রোগ্রামিং প্রতিযোগিতা যা প্রোগ্রামিং সম্পর্কিত সবচেয়ে পুরনো, বৃহত্তম এবং মর্যাদাপূর্ণ প্রতিযোগিতা। এর সূচনা থেকে, প্রতিযোগিতাটি একটি গেম-চেঞ্জার প্রতিযোগিতামূলক এডুকেশনাল প্রোগ্রামে পরিণত হয়েছে। এটি কম্পিউটিং সায়েন্স এবং ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে বিশ্বের সমস্যা সমাধানকারী প্রজন্মের কর্মক্ষমতার মান বাড়ায়। এমন একটি আয়োজনের পাশে থাকতে পারাটা ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের জন্য সত্যিই একটি বড় গৌরবের বিষয়।